শীতের শুরুতে রাঙামাটিতে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়
স্টাফ রিপোর্টার :
শীত মৌসুমের শুরুতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকের ঢল মেনেছে। ডিসেম্বরে স্কুল মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবার পর থেকে জেলায় আসতে শুরু করে পর্যটকরা। প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে। এদিকে পর্যটক বাড়ায় পুরোদমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রাঙামাটির পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বাণিজ্য।
গত বৃহষ্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে তিন দিনের টানা সরকারী ছুটিতে রাঙামাটিতে ছিল পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়। এ তিন দিনে রাঙামাটিতে প্রায় এক লক্ষ পর্যটক আগমন করেছে বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এর পর্যটন ঝুলন্ত সেতুতে তিন দিনে প্রায় ১২ হাজার পর্যটক প্রবেশ করেছে বলে জানান এ কমপ্লেক্স এর ব্যবস্থাপক অলক বিকাশ চাকমা। এ সময় জেলার অধিকাংশ হোটেল মোটেল ও রিসোর্টের সীট আগাম বুকিং হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এ কারণে নতুন করে আগত পর্যটকরা দূর্ভোগের শিকার হন বলে জানা গেছে।
শীতে নতুন রূপে সেজেছে হ্রদ পাহাড়ের দেশ খ্যাত রাঙামাটি জেলা। হ্রদ, পাহাড়, ঝিরি-ঝর্ণা, সবুজ বন বনানী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনধারা, পাহাড়ি খাবার ও সংস্কৃতির সংমিশ্রনে রাঙামাটিতে বিরাজ করছে এক বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রাঙামাটি জেলায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাশয়। যা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়াও জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। যেখানে পর্যটকরা মুগ্ধ হন পাহাড় আর মেঘের মিতালী দেখে । তাই সাজেককে মেঘের রাজ্যও বলা হয়। রাঙামাটি শহরের পলওয়েল পার্ক, সেনা বাহিনী পরিচালিত আরণ্যক রিসোর্ট, শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে গড়ে উঠা বেসরকারী পর্যটন স্পটগুলোতে আগত পর্যটকরা সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করে। প্রাকৃতিক সৌন্দের্য়ের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবন ধারা, পাহাড়ি খাবার ও সংস্কৃতি রাঙামাটিতে আগত পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখো গেছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে ছুটে আসা পর্যটকদের পদচারনায় মুখোর হয়ে উঠে পুরো জেলা। পর্যটক বাড়ায় জেলার হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, উপজাতীয় বস্ত্র বিতানে বেচাকেনা বেড়েছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা ইমন বলেন, “রাঙামাটি জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সরাসরি না দেখে ব্যক্ত করার মতো নয়। এখানকার সৌন্দর্য একেবারেই প্রাকৃতিক। যে কোন দেশের চাইতে আমাদের দেশ সুন্দর”। চট্টগ্রাম থেকে আসা ঈশিতা বড়ুয়া হিল নিউজকে বলেন, “পাহাড়ে বার বার আসি। যত আসি তত মুগ্ধ হই। আমি অত্যন্ত খুশি এ জেলায় ঘুরে বেড়িয়ে”।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রাঙামাটি হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলক বিকাশ চাকমা জানান, শীতের শুরুতে রাঙামাটি জেলায় পর্যটকের ভালো রেসপন্স পাওয়া গেছে। মৌসুমের মাঝামাঝি আগামী বছরের জানুয়ারীতে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।