কাপ্তাই হ্রদে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই চলছে টুরিস্ট বোট

১১

 

বিশেষ প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে টুরিস্ট বোট। এতে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করছে পর্যটকরা। এ ছাড়াও নিয়ম না মেনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ছাদে যাত্রী তোলা এবং নিবন্ধনহীন নৌযান চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা; প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

রাঙামাটিতে আগত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদ। পর্যটকরা টুরিস্ট বোটের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদে ঘুরে বেড়িয়ে এর সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটক বহনকারী অধিকাংশ বোটেই নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম।

জানা গেছে রাঙামাটিতে ছয়টি সমিতির অধীনে প্রায় দেড় হাজার ট্যুরিস্ট বোট থাকলেও বেশিরভাগ নৌযানেরই নিবন্ধন নেই। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে দুই শতাধিক নৌযান চলাচল করে; এর মধ্যে যাত্রীবাহী মাত্র ৩৯টি লঞ্চ ও ৮টি স্পিডবোট নিবন্ধিত। দেড় শতাধিক নৌযান অবৈধভাবে চলাচল করছে।

পলওয়েল পার্ক এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মোবারক বলেন, “পরিবার ও শিশুদের নিয়ে হ্রদে ঘুরতে এসেছি। বোটে কোনো লাইফ জ্যাকেট মেই এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নাইম হোসেন বলেন, “আমাদের বোটে কোনো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ছিল না। ঝড় বা ঢেউ কখন উঠবে বলা যায় না—প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট থাকা জরুরি।”

বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি। আবহাওয়া দ্রুত বদলে যাওয়ায় শান্ত জলরাশি মুহূর্তেই অশান্ত হয়ে উঠছে, যা নৌডুবির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ রাঙ্গামাটির সার্ভিস সুপারভাইজার আকবর হোসেন বলেন, “নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ৭০–৮০টি মামলা করা হয়েছে। নিবন্ধন ও দোতলা নৌযান না তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকে মানছেন না।” তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অফিস স্থাপন হলে সম্মিলিত তদারকিতে অনিয়ম কমবে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সুবলং থেকে রাঙামাটি শহরে ফেরার পথে শিশুসহ ১৯ যাত্রী নিয়ে একটি নৌযান ডুবে যায়। এর আগে— ২০১৪ সালে ডিসি বাংলো এলাকায় নৌযান উল্টে দুইজনের মৃত্যু, ২০২০ সালে সুবলংগামী নৌদুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত, ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী নৌদুর্ঘটনায় দুই বোনের মৃত্যু হয়।

রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, “নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। জনবল সীমিত হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

Facebook Comments Box
You might also like