রাজবনিহারে মানুষের ঢল : দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবরদান শুরু

১৫

 

স্টাফ রিপোর্টার :

রাঙামাটি রাজবন বিহারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলন্বীদের ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বেইন ঘর এবং চরকায় সূতা কেটে চিবরদান উদ্বোধন করেন রাজবনবিহারের আবাসি প্রধান ভিক্ষু প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো। এ সময় সময় রাজবন বিহারের উপাসক উপাসিকা পরিষদের কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি নিরূপা দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা, সদস্য এডভোকেট সুষ্মিতা চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা পূর্ণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে দেশনা দেন। এ সময় সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো রাজবন বিহার প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ভিক্ষু সংঘের কাছে চীবর দান করার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব । এদিকে উৎসবকে ঘিরে রাজবনবিহারের আশে পাশে বসেছে গ্রামাীন মেলা।

রাজবন বিহারের কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা জানান,রাজবন বিহারের বিশাল এলাকা জুড়ে প্রায় ৪শতাধিক চরকা ও ২০০ টি বেইন স্থাপন করা হয়। এতে হাজারো মহিলা-পুরুষ এই চীবর প্রস্তুত কাজে অংশ গ্রহণ করে। তিনি আরো বলেন, উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রাজবন বিহারের কার্যকরী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিরুপা দেওয়ান জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছরও দেশের বাইরে থেকে কিছু সংখ্যক বিদেশী পূর্ণ্যার্থী এসেছেন।
তিনি আরও জানান, ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান সকালের প্রথম পর্বের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ করার পর বিকালে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকল প্রাণীর সুখ ও শান্তি কামনায় ধর্মীয় সমবেত সুত্রপাঠ সহ মঙ্গলাচারণ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় কোমড় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয়। কষ্টসাধ্য এদানকে তাই কঠিন চীবর দান বলা হয়।

বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর প্রচলন করেছিলেন। প্রতি বছর আষাড়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর দান করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৯ বছর ধরে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরমতে, জগতে যত প্রকার দান রয়েছে তার মধ্যে এ চীবর দানই হচ্ছে সর্বোত্তম দান।

Facebook Comments Box
You might also like